1. admin@faridpurnewsbd.com : faridpurnewsbd.com :
মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ১২:৩২ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল সালথা উপজেলা পরিষদ পরিদর্শন ফরিদপুরে খালেদা জিয়ার সুস্থতার কামনায় দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে থানা ও উপজেলা অফিসে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ৮৮ জনের নামে পুলিশের মামলা – গ্রেপ্তার ১৩ সালথায় রণক্ষেত্র উপজেলা পরিষদ;গুজব ছড়িয়ে উস্কে দেয়া হয় হামলাকারীদের ফরিদপুরে লকডাউনে লাটিপেটাকে কেন্দ্র করে থানা ও উপজেলায় হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ : নিহত ১ সালথায় লকডাউনে লাঠিচার্জ করায় থানা-উপজেলা কার্যালয়ে হামলা ফরিদপুরে সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়কের বেহাল দশা : যান চলাচল বন্ধ ফরিদপুরে কতিপয় নেতাদের গ্যারা কলে তৃণমূলের কর্মীরা মধুখালীতে ডাঃ আঃ কাদের মেমোরিয়াল হাসপাতাল নির্মান কাজের উদ্বোধন শিকড় সামাজিক সংগঠনের জন্মদিন ও বার্ষিক সাধারণ সভা ২০২১ অনুষ্ঠিত

সালথায় রণক্ষেত্র উপজেলা পরিষদ;গুজব ছড়িয়ে উস্কে দেয়া হয় হামলাকারীদের

মোহাম্মদ সুমন সালথা প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ এপ্রিল, ২০২১
  • ১৬৪ বার পড়া হয়েছে

ফরিদপুরের সালথায় গুজব ছড়িয়ে উস্কে দেয়া হয় হামলাকারীদের। প্রায় ৪ ঘন্টা ব্যাপী চলে অগ্নিসংযোগ ভাঙচুর ও লুটপাট রণক্ষেত্রে পরিণত হয় উপজেলা পরিষদের গ্রাউন্ড ফ্লোরের প্রায় প্রতিটি কার্যালয়। ফরিদপুর, ভাঙ্গা ও পার্শ্ববর্তী থানার অতিরিক্ত পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও র‌্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে অবিরাম গুলি ও টিয়ার সেল বর্ষণ করে গভীর রাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এঘটনায় পুলিশের গুলিতে একজন হাফেজ নিহত হয়েছেন। নিহতের সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামান জানিয়েছেন, ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করতে সিআইডির ক্রাইম টিম কাজ শুরু করেছে। এদিকে গতকাল সন্ধা হতে সারারাতের তান্ডবের পর সকালে সালথা উপজেলা সদরে যেয়ে দেখা গেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ভবনের বিভিন্ন সরকারী অফিস ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে উপজেলা ত্রাণের গুদাম ও কৃষি অফিস। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবন ও উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবনেও ভাংচুর করা হয়েছে। দুটি বিলাসবহুল সরকারী ও দুটি মোটর সাইকেল পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সাতটি মোটর সাইকেল ভাংচুর করা হয়েছে। দুটি মোটর সাইকেল হামলাকারীরা নিয়ে গেছে।

হামলার সময় নিহত ওই মাদ্রাসা ছাত্রের নাম হাফেজ মো. জুবায়ের হোসেন (২২)। সে সালথা উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের রামকান্তপুর গ্রামের আশরাফ আলী মোল্যার বড় ছেলে। মাদারিপুর জেলার শিবচরের একটি মাদ্রাসা হতে হাফেজি সম্পন্ন করে হাফেজ জুবায়ের সেখানে চার জামাতে পড়াশুনা করছে। তারা তিন ভাই ও একবোন। গতকাল রাতে জুবায়েরের মৃত্যুর পর মঙ্গলবার সকালে বাড়ির প্রাঙ্গণে হাফেজ জুবায়েরের জানাযা শেষে পারিবারীক কবরস্থানেই তাঁকে দাফন করা হয়। সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা সদরের থানা কার্যালয়, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, এসি ল্যান্ডের অফিস, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও সরকারী বাসভবন, উপজেলা চেয়ারম্যানের সরকারী বাসভবনে হামলা হয়েছে। এরমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ভবনে অবস্থিত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে হামলা হয়েছে বেশি। পুরো ভবনের নিচতলার অধিকাংশ দরজা জানালা ও আসবাব ভাংচুর করা হয়েছে। কাগজপত্র ও মালামাল তছনছ করা হয়েছে। এসিল্যান্ড অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়ায় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বিনষ্ট হয়েছে। পাশের মুক্তযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে পল্লী বিদুৎ সমিতির অস্থায়ী কার্যালয়ের জানালা ও সাইনবোর্ড ভাংচুর করা হয়েছে। পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। হামলার শিকার এসবস্থানে র‍্যাব, পুলিশ ও বিজিবি মোতায়ন রয়েছে। সদরের দোকানপাট অধিকাংশ বন্ধ রয়েছে। এদিকে, এ ঘটনার সময় হামলার সাথে জড়িত কতোজন আহত হয়েছেন তা নিদিষ্ট করে জানা যায়নি।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মঙ্গলবার সকালে সালথা থানা কার্যালয় চত্বরে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, গতকাল যে ঘটনা ঘটেছে পুরো ঘটনাটি নিয়ন্ত্রণে রাত ১২টা পর্যন্ত কাজ করেছি। যেই ধ্বংসযজ্ঞ তারা চালিয়েছে সেসব আলামত সংগ্রহ করেছে সিআইডির ক্রাইম টিম। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ঘটনায় জড়িত সংশ্লিষ্টদের ধরার চেষ্টায় আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। হামলায় পুলিশ ও র‌্যাবের ৮ জন আহত হয়েছেন। তারা বিভিন্নভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। সংঘর্ষে জড়িতদের মধ্যে একজন মারা গেছে এবং চারজন আহত হয়েছে।

তিনি বলেন, ঘটনার পরবর্তীতে বিভিন্ন ধরণের গুজব প্রচার করা হয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লোক এবং পলিটিকাল মতাদর্শের লোক জড় হয়েছে। আমরা বিষয়টি যাচাইবাছাই করে তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি।
তিনি বলেন, অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য নেয়া হচ্ছে। পুরো বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনতে পর্যাপ্ত সংখ্যক গুলি বর্ষণ করতে হয়েছে। থানা পুলিশ ৫৫২ রাউন্ড রাবার বুলেট, টিয়ার সেল ব্যবহার করেছি। লেট বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে। সর্বোপরি আমরা শেষ মুহুর্তে চায়না রাইফেল ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছি।
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসিব সরকার এব্যাপারে বলেন, সম্প্রতি তিনি করোনা আক্রান্ত। ঘটনার সময় তিনি সরকারী বাসভবনে ছিলেন না। তিনি বলেন, ফেসবুক ও স্থানীয় বিভিন্ন লোকজন গুজব ছড়িয়ে দেয় যে, পুলিশ এবং প্রশাসন ইসলামের বিরুদ্ধে কাজ করছে। তারা একজন হুজুরকে ধরে নিয়ে গেছে। তারা পুলিশ এবং উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতে দিতে উপজেলা অফিসের দিকে আসতে থাকে।

তিনি বলেন, ঘটনাটি জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করলে ফরিদপুর ছাড়াও আশেপাশের জেলা হতে পুলিশ ফোর্স আসে। কিন্তু উত্তেজিত জনতার সংখ্যা এতো বেশি ছিল যে এই স্বল্পসংখ্যক ফোর্স দিয়ে তাদের ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে তারা উপজেলা অফিস চত্বরে প্রবেশ করে উপজেলা কৃষি অফিসের সমস্ত কিছু তারা ভাংচুর করেছে। আমাদের ল্যাপটপ চুরি করেছে। এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার যে গোডাউন রয়েছে সেটিও তারা আগুন দিয়ে জালিয়ে দেয়। তারা আমার বাসভবনের দিকে অগ্রসর হলে আমার নিরাপত্তায় যে আনসার রয়েছে তারা গুলি করে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু তারা তাদের উপেক্ষা করে হামলা করে। বাসায় আমার পরিবার ছিল। তারা অতর্কিতভাবে মধ্যযুগীয় কায়দায় আমার বাসভবনে হামলা চালায়। এখানে গ্যারেজে ইউএনও এবং এসি ল্যান্ডের সরকারী গাড়ি ছিল সে দুটিও জালিয়ে দেয়।

তিনি বলেন, একপর্যায়ে তারা বাসভবনের সমস্ত কিছু ভাংচুর করে। পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ এসে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরমধ্যে উপজেলা ভুমি অফিসের নথিপত্র রেকর্ড সবকিছু জালিয়ে পুড়িয়ে বিনষ্ট করেছে। সবচাইতে দুঃখজনক ঘটনা হচ্ছে, উপজেলা চত্বরে যে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি এবং মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে যে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল রয়েছে সেগুলো তারা তান্ডবলীলা চালিয়ে ভেঙ্গে ফেলেছে। তারা যে ধরনের স্লোগান ব্যবহার করেছে এ থেকে বোঝা যায়, লকডাউন মুল কারণ নয়। মূল কারণ হচ্ছে, এখানে স্বাধীনতাবিরোধী চক্র এবং ধর্মান্ধ গোষ্ঠী তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ভূলুন্ঠিত করার জন্য এ হামলা করেছে।
এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পাশে এসিল্যান্ড

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি